ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এখন সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে। শেষ আটে জায়গা করে নেওয়া আটটি দলকে ঘিরে ফুটবল বিশ্বে বাড়ছে আলোচনা, বিশ্লেষণ আর প্রত্যাশা। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বদল এসেছে FIFA/Coca Cola World Ranking এর লাইভ হিসাবেও। টুর্নামেন্ট চলাকালীন আপডেট হওয়া এই র্যাঙ্কিংয়ে দেখা যাচ্ছে, কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা বেশিরভাগ দলই বিশ্বের সেরা দলগুলোর কাতারে রয়েছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে ফ্রান্সকে ঘিরে। ধারাবাহিক দারুণ পারফরম্যান্সের সুবাদে আবারও বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ফ্রান্স । অন্যদিকে মরক্কো, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়ের মতো দলও নিজেদের অবস্থানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে।
গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নকআউট রাউন্ড, সব মিলিয়ে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে ফ্রান্স। সেই পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে তারা লাইভ বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে আর্জেন্টিনা ও স্পেনকে পেছনে ফেলে এক নম্বরে উঠে এসেছে। এখন কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো। দুই দলের সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় ম্যাচটি বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই হয়ে উঠেছে। একদিকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার ফ্রান্স, অন্যদিকে ইতিহাস গড়ার স্বপ্নে বিভোর মরক্কো।
২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের পর এবারও বড় মঞ্চে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করছে মরক্কো। শেষ ষোলোতে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে বিদায় জানিয়ে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে। লাইভ বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে দলটি এখন ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে এবং পঞ্চম স্থানে থাকা ব্রাজিলের সঙ্গে ব্যবধানও খুবই কম। ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখতে পারলে আগামী মাসগুলোতে আরও ওপরে ওঠার সুযোগ রয়েছে আটলাস লায়ন্সদের সামনে।

টুর্নামেন্টে স্পেনের পারফরম্যান্স প্রশংসিত হলেও লাইভ র্যাঙ্কিংয়ে তারা দ্বিতীয় স্থান হারিয়ে তৃতীয় অবস্থানে নেমে এসেছে। এর প্রধান কারণ ফ্রান্সের বেশি রেটিং পয়েন্ট অর্জন। তবে পর্তুগালের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ জয়ের মাধ্যমে স্পেন আত্মবিশ্বাস নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। এবার তাদের সামনে অপেক্ষা করছে শক্তিশালী বেলজিয়াম।
শেষ ষোলোতে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে বেলজিয়াম। সেই জয়ের প্রভাব পড়েছে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়েও। তারা এক ধাপ এগিয়ে এখন অষ্টম স্থানে রয়েছে। অভিজ্ঞ ও তরুণ ফুটবলারদের সমন্বয়ে গড়া দলটি এবার স্পেনকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত।
বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি উন্নতি করা দলগুলোর মধ্যে সবার আগে রয়েছে নরওয়ে। তারা এক লাফে ১২ ধাপ এগিয়ে এখন ১৯তম স্থানে উঠে এসেছে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে দলটি যেভাবে খেলছে, তা ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। বিশেষ করে স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। চার ম্যাচে সাত গোল করে তিনি গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও অন্যতম দাবিদার।
কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। দুই ইউরোপীয় দলের এই লড়াই ঘিরেও উত্তেজনা তুঙ্গে।
সহ-আয়োজক মেক্সিকোর বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস জয় তুলে নিয়ে ইংল্যান্ড নিজেদের চতুর্থ স্থান ধরে রেখেছে। হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যাম এখন পর্যন্ত দলের আক্রমণের প্রধান ভরসা। দুজন মিলে ইংল্যান্ডের বেশিরভাগ গোল করেছেন। কোয়ার্টার ফাইনালেও তাদের দিকেই তাকিয়ে থাকবে ইংলিশ সমর্থকেরা।
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচ জিতেছে। তবুও লাইভ র্যাঙ্কিংয়ে তারা এক নম্বরে নেই।কারণ, প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা ও রেটিং হিসাবের ভিত্তিতে ফ্রান্স তুলনামূলক বেশি পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। ফলে আর্জেন্টিনা আপাতত দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড।

কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ আটে উঠেছে সুইজারল্যান্ড। সেই জয়ের পর তারা লাইভ বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে পাঁচ ধাপ এগিয়ে এখন ১৪তম স্থানে রয়েছে। দলটি যদি কোয়ার্টার ফাইনালেও সফল হয়, তাহলে দীর্ঘ সাত বছর পর আবারও বিশ্বের সেরা দশ দলের মধ্যে ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
FIFA/Coca-Cola World Ranking (Live)
| র্যাঙ্ক | দেশ | লাইভ পয়েন্ট |
|---|---|---|
| 1 | ফ্রান্স | 1909.20 |
| 2 | আর্জেন্টিনা | 1906.34 |
| 3 | স্পেন | 1904.19 |
| 4 | ইংল্যান্ড | 1841.10 |
| 5 | ব্রাজিল | 1779.65 |
| 6 | মরক্কো | 1778.61 |
| 7 | পর্তুগাল | 1756.90 |
| 8 | বেলজিয়াম | 1744.83 |
| 14 | সুইজারল্যান্ড | 1669.54 |
| 19 | নরওয়ে | 1624.31 |
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচই নতুন ইতিহাস লেখার সুযোগ এনে দেয়। লাইভ বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ফ্রান্স শীর্ষে উঠলেও শিরোপা জিততে হলে তাদের সামনে এখনও কঠিন পথ বাকি। একইভাবে আর্জেন্টিনা, স্পেন, ইংল্যান্ড কিংবা বেলজিয়ামের মতো দলগুলোও নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণে প্রস্তুত।
অন্যদিকে মরক্কো, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড দেখিয়ে দিয়েছে, বর্তমান ফুটবলে শুধু র্যাঙ্কিং নয় , সাহস, পরিকল্পনা ও সঠিক দিনে সেরা পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়। তাই কোয়ার্টার ফাইনালের চারটি ম্যাচ শুধু সেমিফাইনালের টিকিটের লড়াই নয়, বিশ্ব ফুটবলের নতুন গল্প লেখারও মঞ্চ।