July 10, 2026, 12:46 AM

ফ্রান্স-মরক্কোর কোয়ার্টার ফাইনাল – অতীত ও অভিবাসনের এক লড়াই

খেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ ৯ জুলাই, ২০২৬
ফ্রান্স-মরক্কোর কোয়ার্টার ফাইনাল

ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের টিকিট কাটার লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফ্রান্স ও মরক্কো। তবে  ফ্রান্স-মরক্কোর কোয়ার্টার ফাইনাল  কেবল মাঠের ফুটবল লড়াইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি হয়ে উঠেছে দুটি দেশের যৌথ ইতিহাস, অভিবাসন যাত্রা এবং বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক অনন্য মিলনমেলা। কিলিয়ান এমবাপ্পে থেকে শুরু করে আশরাফ হাকিমি, দুই দলেরই মাঠ কাঁপানো তারকাদের পারিবারিক শিকড় ছড়িয়ে আছে আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্তে।

আধুনিক আন্তর্জাতিক ফুটবল কীভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলা অভিবাসনের মাধ্যমে সমৃদ্ধ হয়েছে, এই দুই দল তারই এক জলজ্যান্ত উদাহরণ। যেখানে অনেক খেলোয়াড়ই বেছে নিয়েছেন তাদের জন্মভূমি অথবা পূর্বপুরুষদের জন্ম নেওয়া দেশটিকে।

ফ্রান্স: বৈশ্বিক শিকড়ে গড়া এক অপরাজেয় দল

ফরাসি জাতীয় দল দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির বৈশ্বিক এবং বহুসাংস্কৃতিক সামাজিক কাঠামোর প্রতিফলন ঘটিয়ে আসছে। কোচ দিদিয়ে দেশমের বর্তমান স্কোয়াডের একটা বড় অংশের খেলোয়াড়দের পারিবারিক শিকড় রয়েছে আফ্রিকা, ক্যারিবিয়ান এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে।


  • আলজেরীয় সংযোগ: ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের মায়ের সূত্রে রয়েছে আলজেরীয় কাবিলে ঐতিহ্য। এছাড়া মাইকেল অলিসে, রায়ান চেরকি এবং মাগনেস আকলিউশেরও রয়েছে আলজেরীয় শিকড়।



  • ক্যামেরুন ও মালি: এমবাপ্পের বাবা ক্যামেরুনিয়ান, অন্যদিকে আউরেলিয়ান চুয়ামেনি এবং উইলিয়াম সালিবার (মায়ের সূত্রে) পরিবারও ক্যামেরুন থেকে আসা। মালির ঐতিহ্য বহন করছেন উসমান দেম্বেলে, ইব্রাহিমা কোনাতে এবং এনগোলো কান্তে।



  • সেনেগাল ও ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ: দেম্বেলের মা এবং দায়ো উপামেকানোর পরিবার সেনেগালের বংশোদ্ভূত। অন্যদিকে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের ছোঁয়া রয়েছে মার্কাস থুরাম (গুয়াদেলুপ) এবং গোলরক্ষক মাইক মাইনোনের (গুয়াদেলুপ ও হাইতি) পরিবারে।



  • অন্যান্য দেশের ছোঁয়া: মানু কোনে ও দেজিরে দুয়ের রয়েছে আইভরি কোস্টের শিকড়, ব্র্যাডলি বারকোলার টোগো এবং উপামেকানোর বাবার পরিবার গিনি-বিসাউয়ের। এছাড়া অলিসের নাইজেরীয় এবং সালিবার লেবানিজ বংশোদ্ভূত পরিচয়ও রয়েছে।


ফ্রান্সের এই শক্তির পেছনে যেমন রয়েছে তাদের এই বৈচিত্র্যময় ট্যালেন্ট পুল, তেমনই ভূমিকা রেখেছে দেশটির উন্নত ফুটবল একাডেমি ব্যবস্থা, যা অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের বিশ্বমানের তারকায় রূপান্তর করেছে।

মরক্কো: প্রবাসী নেটওয়ার্কের ওপর ভর করে ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’দের উত্থান

বিশ্ব ফুটবলে মরক্কোর পরাশক্তি হয়ে ওঠার গল্পটি মূলত গড়ে উঠেছে তাদের বিশাল প্রবাসী (Diaspora) নেটওয়ার্কের ওপর ভিত্তি করে। দলটির প্রধান তারকাদের অনেকেই ইউরোপে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং সেখানেই বড় হয়েছেন, তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য বেছে নিয়েছেন তাদের পূর্বপুরুষের দেশ মরক্কোকে।


স্পেন ও নেদারল্যান্ডস সংযোগ: মরক্কোর অন্যতম সেরা তারকা আশরাফ হাকিমি স্পেনের মাদ্রিদে এবং ব্রাহিম দিয়াজ মালাগায় জন্মগ্রহণ করেন। ইসমায়েল সাইবারির জন্মও স্পেনের তেরাসায়। অন্যদিকে, মাঝমাঠের প্রাণ সোফিয়ান আমরাবাত ও নুসাইর মাজরাউই, দুজনেই নেদারল্যান্ডসে জন্মগ্রহণ ও বড় হওয়ার পর মরক্কোর জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন।

ফ্রান্স ও বেলজিয়াম: ডিফেন্ডার ইসা দিওপ ফ্রান্সের তুলুজে জন্মগ্রহণ করেন। এছাড়া তরুণ মিডফিল্ডার আইয়ুব বুআদি ফ্রান্সের বয়সভিত্তিক দলে খেলার পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মরক্কোকে বেছে নেন। বেলজিয়ামে জন্ম নেওয়া বিলাল এল খানুস এবং চেলসদিন তালবিও খেলছেন মরক্কোর হয়ে।কানাডা থেকে কাসাব্লাঙ্কা: দলের অতন্দ্র প্রহরী ও গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু (বুনো) জন্মগ্রহণ করেছিলেন কানাডার মন্ট্রিয়লে। শৈশবেই তিনি মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় চলে আসেন এবং পরবর্তীতে দেশের এক নম্বর গোলরক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

 ফুটবলের চেয়েও বড় এক লড়াই

আজকের এই ফ্রান্স-মরক্কো দ্বৈরথ আধুনিক ফুটবলের এক বাস্তব চিত্রকে ফুটিয়ে তোলে, যেখানে অভিবাসন, দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং সীমান্তের ওপারে থাকা পারিবারিক বন্ধন জাতীয় দলগুলোকে নতুন রূপ দিচ্ছে। দুই দেশের ফুটবল ভক্তদের কাছে এই কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি কেবল সেমিফাইনালের লড়াই নয়, বরং ফুটবল মাঠের আঙিনায় দুই দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির এক মিলনমেলা।

এই ভিডিওটি আপনাকে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স ও মরক্কোর মধ্যকার উত্তেজনাকর ম্যাচটির আগের আবহ এবং কৌশলগত দিকগুলো বুঝতে সাহায্য করবে


এই ক্যাটাগরির আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com