আরবি লাইপজিগের তরুণ উইঙ্গার ইয়ান দিয়োমান্দেকে চায় রিয়াল মাদ্রিদ । ১৯ বছর বয়সী এই আইভরি কোস্ট ফরোয়ার্ডকে নিয়ে জার্মান ক্লাবটির সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। দিয়োমান্দের জন্য প্রায় ১০ কোটি ইউরোর প্রস্তাব দিয়েছিল রিয়াল। তবে সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে লাইপজিগ। তাদের দাবী প্রায় ১৩ কোটি ইউরো। যদিও আলোচনার মাধ্যমে ১২ কোটি ইউরোর কাছাকাছি কোনো অঙ্কে সমঝোতা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্কাই জার্মানিও জানিয়েছে, রিয়ালের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে লাইপজিগ। তাদের দেওয়া প্রস্তাবে শুরুতে ৭ কোটি ৬৯ লাখ পাউন্ডের পাশাপাশি পারফরম্যান্সভিত্তিক আরও ৮৫ লাখ পাউন্ড পাওয়ার সুযোগ ছিল। তবে লাইপজিগ এখনো নিজেদের নির্ধারিত মূল্য থেকে সরে আসেনি।
দিয়োমান্দেকে নিয়ে এবারের গ্রীষ্মের দলবদলে বড় লড়াই চলছে। আগে প্রায় ১০ কোটি ইউরোর প্রস্তাব দিয়েও ব্যর্থ হয়েছে লিভারপুল। ইংলিশ ক্লাবটি এখনও আগ্রহী হলেও বর্তমান মূল্যায়নের চেয়ে বেশি অর্থ খরচ করতে তারা প্রস্তুত নয় বলে খবর রয়েছে।
ফরাসি চ্যাম্পিয়ন পিএসজিও বেশ কিছুদিন ধরে দিয়োমান্দের ওপর নজর রাখছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্যারিসের ক্লাবটিই ছিল দিয়োমান্দের পছন্দের গন্তব্য এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নিয়েও প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছিল। তবে লাইপজিগকে রাজি করানোর মতো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এখনও দেয়নি পিএসজি।
দ্য অ্যাথলেটিকের তথ্য অনুযায়ী, রিয়াল মাদ্রিদের আগ্রহ দিয়োমান্দের দলবদলের চিত্রই বদলে দিয়েছে। ডান প্রান্তের আক্রমণভাগ শক্তিশালী করতে তাকে এখন ক্লাবটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে দিয়োমান্দেকে পেতে হলে ব্রাহিম দিয়াজকে বিক্রি করতেই হবে, এমন নয়। বরং রিয়াল মাদ্রিদে ব্রাহিমকে এখনও গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। মরক্কোর এই তারকাও সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে থাকতে চান বলে জানা গেছে।
দিয়োমান্দের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা রক নেশন স্পোর্টস’র সঙ্গেও রিয়াল মাদ্রিদের সম্পর্ক রয়েছে। একই সংস্থা রিয়ালের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের প্রতিনিধিত্ব করে এবং বর্তমানে তার চুক্তি নবায়ন নিয়েও ক্লাবটির সঙ্গে আলোচনা করছে।
এদিকে লাইপজিগের স্পোর্টিং ডিরেক্টর মার্সেল শেফার প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তারা দিয়োমান্দেকে ধরে রাখতে চান। তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত। জার্মান ক্লাবটি সেই চুক্তি আরও দীর্ঘ করার চেষ্টাও করছে।
তবে মাত্র এক বছরে দিয়োমান্দের উত্থান তাকে ইউরোপের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত তরুণ তারকায় পরিণত করেছে। গত মৌসুমে লেগানেস থেকে লাইপজিগে যোগ দেওয়ার পর বুন্দেসলিগায় ৩৩ ম্যাচে ১২ গোল ও ৯টি অ্যাসিস্ট করেন তিনি। তার পারফরম্যান্সে লাইপজিগ লিগে তৃতীয় হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা নিশ্চিত করে।
বিশ্বকাপেও আইভরি কোস্টের হয়ে চার ম্যাচে মাঠে নেমেছেন দিয়োমান্দে। দ্রুত গতি, দুর্দান্ত ড্রিবলিং, একের পর এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ওঠার দক্ষতা এবং দুই পায়েই ফিনিশিংয়ের সামর্থ্য তাকে আলাদা করে তুলেছে। দুই উইংয়েই খেলতে পারা এই তরুণের আক্রমণাত্মক প্রেসিংও নজর কেড়েছে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর।
দিয়োমান্দেকে শেষ পর্যন্ত বিক্রি করলে সেটি হবে লাইপজিগের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দলবদল। এর আগে জোস্কো গাভারদিওলকে ম্যানচেস্টার সিটি এবং বেঞ্জামিন শেশকোকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে বিক্রি করে বড় অঙ্কের অর্থ পেয়েছিল জার্মান ক্লাবটি।
দিয়োমান্দের সম্ভাব্য দলবদল থেকে লাভবান হতে পারে তার সাবেক ক্লাব লেগানেসও। কারণ, স্পেন ছাড়ার সময় আইভরি কোস্টের এই তারকার পরবর্তী দলবদল থেকে ১০ শতাংশ অর্থ পাওয়ার শর্ত রেখেছিল ক্লাবটি। ফলে ১০ কোটি ইউরোর বেশি মূল্যের কোনো চুক্তি হলে লেগানেসও বড় অঙ্কের অর্থ পেতে পারে।