বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার পর আনন্দে ভেসেছিল পুরো আর্জেন্টিনা দল। তবে ম্যাচ শেষের উদযাপনের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাই এখন আর্জেন্টাইন তারকাদের প্রিমিয়ার লিগ ক্যারিয়ারের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে বড় এক প্রশ্নচিহ্ন।
ম্যাচ জয়ের পর মাঠে একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা, যাতে স্প্যানিশ ভাষায় লেখা ছিল ‘Las Malvinas son Argentinas’ (ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার)। ফুটবল মাঠে এ ধরনের রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের পর থেকেই যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ও ক্রীড়াঙ্গনে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
এই উদযাপনের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা আর্জেন্টাইন তারকাদের নাম:
লিসান্দ্রো মার্তিনেস (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)
ক্রিস্টিয়ান রোমেরো (টটেনহ্যাম হটস্পার)
এনজো ফার্নান্দেজ (চেলসি)
যুক্তরাজ্যের একটি অংশের নাগরিক ও রাজনীতিবিদদের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি উঠেছে, যেসব ফুটবলার এই রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনে জড়িত ছিলেন, তাঁদের প্রিমিয়ার লিগের ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট অবিলম্বে বাতিল করা হোক। যদি সত্যিই এই দাবি আমলে নেওয়া হয়, তবে আগামী ২০২৬-২৭ মৌসুমে নিজ নিজ ক্লাবে ফেরা কঠিন হয়ে পড়তে পারে এই খেলোয়াড়দের জন্য।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার বিরোধ কয়েক দশকের পুরোনো। ১৯৮২ সালে এই দ্বীপকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধও হয়েছিল, যেখানে সামরিক জয় পায় যুক্তরাজ্য। তা সত্ত্বেও আর্জেন্টিনা সবসময় দ্বীপপুঞ্জটিকে নিজেদের বলে দাবি করে আসছে। ফলে বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে ইংলিশদের হারানোর পর এই ব্যানার প্রদর্শন ব্রিটিশদের মনস্তাত্ত্বিক জায়গায় বড় আঘাত হেনেছে।
রাজনৈতিক ইস্যু মাঠ পর্যন্ত গড়ালেও আইনগত ও নিয়মতান্ত্রিক জায়গা থেকে বিষয়টি কতদূর গড়াতে পারে?
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ফিফ ‘র স্টেডিয়াম কোড অব কন্ডাক্ট অনুযায়ী, যেকোনো রাজনৈতিক, উসকানিমূলক বা বৈষম্যমূলক ব্যানার ও বার্তা প্রদর্শন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। ফিফা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে, তবে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো শাস্তির ঘোষণা আসেনি।
অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত: বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল একটি ম্যাচ উদযাপনে রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শনের ওপর ভিত্তি করে প্রিমিয়ার লিগের তারকা ফুটবলারদের ওয়ার্ক ভিসা বাতিল করা আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে বেশ জটিল। রাজনৈতিক চাপ থাকলেও সরাসরি ভিসা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত বেশ কম।
মাঠের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা ইতিহাস গড়েছে ঠিকই, কিন্তু শেষ মুহূর্তের উদযাপনের খেসারত হিসেবে ফকল্যান্ড বিতর্ক হয়ে থাকল এই টুর্নামেন্টের অন্যতম চর্চিত ঘটনা। এখন দেখার বিষয়, ফিফার পক্ষ থেকে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আসে কি না, কিংবা ব্রিটিশ সরকার এই ইস্যুতে বাড়তি কোনো কঠোর অবস্থান নেয় কি না।