বিশ্বকাপে গোলদাতারা যতটা আলোচনায় থাকেন, অনেক সময় তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সেই ফুটবলাররা, যাদের নিখুঁত পাস থেকে জন্ম নেয় গোল। একটি সঠিক থ্রু বল, ডিফেন্স চিরে দেওয়া ক্রস কিংবা সময়মতো বাড়িয়ে দেওয়া পাস, এসবই বদলে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য। আসুন জেনে নেওয়া যাক, বিশ্বকাপ ২০২৬ এ সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতা কে?
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এর কোয়ার্টার ফাইনাল শুরুর আগে অ্যাসিস্টের লড়াইয়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ফ্রান্সের তরুণ উইঙ্গার মাইকেল অলিসে। তার অসাধারণ সৃজনশীলতা ও নিখুঁত পাস ইতোমধ্যেই ফ্রান্সের আক্রমণভাগকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে।
এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৫টি অ্যাসিস্ট করে সবার ওপরে অবস্থান করছেন মাইকেল অলিসে। ফ্রান্সের আক্রমণে কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে কিংবা অন্যান্য ফরোয়ার্ডদের জন্য একের পর এক গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন তিনি। শুধু গোল বানিয়ে দেওয়াই নয়, প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে বিভ্রান্ত করে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন অলিসে।
অলিসের ঠিক পেছনেই রয়েছেন দুইজন ফুটবলার। প্রত্যেকেই করেছেন ৪টি করে অ্যাসিস্ট।
ব্রাজিল বিদায় নিলেও ব্রুনো গিমারায়েসের সৃজনশীল ফুটবল দর্শকদের নজর কেড়েছে। অন্যদিকে মরক্কোর হয়ে ব্রাহিম দিয়াজ এখনও শিরোপার দৌড়ে আছেন এবং কোয়ার্টার ফাইনালেও তার কাছ থেকে বড় কিছু প্রত্যাশা করছে সমর্থকেরা।
তৃতীয় স্থানে একাধিক ফুটবলার সমান সংখ্যক অ্যাসিস্ট নিয়ে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন :
বিশেষ করে নরওয়ের ওডেগার্ড ও শেলদেরুপের জুটি এবার দলের আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
দুইটি করে অ্যাসিস্ট করেছেন এমন খেলোয়াড়দের তালিকায় আছেন বেশ কয়েকজন পরিচিত তারকা। ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে ও কিলিয়ান এমবাপ্পে, স্পেনের মার্ক কুকুরেয়া, মরক্কোর আশরাফ হাকিমি, ইংল্যান্ডের অ্যান্থনি গর্ডন, বেলজিয়ামের লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড, জার্মানির যোশুয়া কিমিখ, সুইজারল্যান্ডের ব্রিল এমবোলো, নেদারল্যান্ডসের রায়ান গ্রাভেনবার্খ, সুইডেনের ভিক্টর জিওকেরেস, মিসরের মোহাম্মদ সালাহসহ আরও অনেকেই এই তালিকায় রয়েছেন।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক আসরে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট করার রেকর্ড এখনো ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের। ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে তিনি করেছিলেন ৬টি অ্যাসিস্ট, যা আজও অক্ষত রয়েছে।

এরপর পাঁচটি অ্যাসিস্ট করে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন ;
অর্থাৎ আর মাত্র একটি অ্যাসিস্ট করলেই পেলের সর্বকালের রেকর্ডে ভাগ বসাবেন অলিসে। আর দুটি অ্যাসিস্ট করতে পারলে গড়বেন নতুন বিশ্বরেকর্ড।
কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত
| # | খেলোয়াড় | দেশ | অ্যাসিস্ট |
|---|---|---|---|
| ১ | মাইকেল অলিসে শীর্ষে | ফ্রান্স | ৫ |
| ২ | ব্রুনো গিমারায়েস | ব্রাজিল | ৪ |
| ২ | ব্রাহিম দিয়াজ | মরক্কো | ৪ |
| ৪ | রবার্তো আলভারাডো | মেক্সিকো | ৩ |
| ৪ | আলেকজান্ডার ইসাক | সুইডেন | ৩ |
| ৪ | মার্টিন ওডেগার্ড | নরওয়ে | ৩ |
| ৪ | বুকায়ো সাকা | ইংল্যান্ড | ৩ |
| ৪ | আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ | নরওয়ে | ৩ |
| ৪ | ফ্লোরিয়ান ভির্টজ | জার্মানি | ৩ |
গোল করার মতো গোল বানিয়ে দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাস বলছে, অনেক বিশ্বকাপজয়ী দলের সাফল্যের পেছনে একজন অসাধারণ প্লেমেকারের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। এবার সেই ভূমিকায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন মাইকেল অলিসে। ফ্রান্স যদি শিরোপার পথে আরও এগিয়ে যায়, তাহলে অলিসের সামনে শুধু অ্যাসিস্ট তালিকার শীর্ষে থাকা নয়, বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্লেমেকারদের পাশে নিজের নাম লেখানোরও সুযোগ রয়েছে।