July 11, 2026, 1:06 AM

এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস – মরক্কোকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

খেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ ১০ জুলাই, ২০২৬
মরক্কোকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

পেনাল্টি মিসের হতাশা ভুলে জ্বলে উঠলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাঁর চমৎকার গোল এবং উসমান দেম্বেলের স্কোরে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পা রাখল ফ্রান্স।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ছয় মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে মরক্কোর প্রতিরোধ ভেঙে দেয় ফরাসিরা। এই জয়ের মাধ্যমে শেষ চারে বেলজিয়াম বা স্পেনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দিদিয়ের দেশমের দল।

ম্যাচে বেশ কয়েকটি মাইলফলক স্পর্শ করেছেন এমবাপ্পে। মাত্র ২৭ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে ২০টি ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েন তিনি, যা সাবেক ফরাসি গোলরক্ষক হুগো লরিসের অল-টাইম রেকর্ডের সমান। পাশাপাশি বিশ্বকাপে নিজের ২০তম গোলটিও তুলে নেন এই ফরোয়ার্ড। চলতি আসরে লিওনেল মেসির সমান ৮ গোল নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষ গোলদাতা এখন এমবাপ্পে। আর বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মেসির চেয়ে মাত্র ১ গোল পিছিয়ে আছেন তিনি।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ফ্রান্স। ২৮ মিনিটে পেনাল্টি পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি এমবাপ্পে। মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু দুর্দান্ত দক্ষতায় তাঁর নিচু শটটি আটকে দেন। ইউরো ২০২০-এর পর জাতীয় দলের হয়ে এটিই এমবাপ্পের প্রথম পেনাল্টি মিস। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে লুকাস ডিনের একটি দূরপাল্লার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসলে লিড নেওয়া হয়নি ফ্রান্সের। অন্যদিকে প্রথমার্ধে মরক্কোর আক্রমণভাগ ফরাসি ডিফেন্সের কোনো পরীক্ষাই নিতে পারেনি।

২৮ মিনিটে পেনাল্টি পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি এমবাপ্পে। মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু দুর্দান্ত দক্ষতায় তাঁর নিচু শটটি আটকে দেন।

তবে ম্যাচের ৬০ মিনিটে পেনাল্টি মিসের আক্ষেপ মেটান এমবাপ্পে। বক্সের ঠিক ভেতর থেকে দারুণ এক বাঁকানো শটে বল জালে জড়ান তিনি।

এমবাপ্পের দুর্দান্ত এক অসাধারণ গোলে লিড নিল ফ্রান্স! দুয়ে-র বাড়ানো পাস থেকে বল পেয়ে ২০১৮ বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা ডান পায়ের নিখুঁত এক বাঁকানো শটে বল জালে জড়ালেন।

মরক্কো সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ৬৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উসমান দেম্বেলে। এমবাপ্পের তৈরি করে দেওয়া ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে জোরালো শটে আসরে নিজের পঞ্চম গোলটি করেন দেম্বেলে।

অলিসে পাস বাড়িয়েছিলেন এমবাপ্পের দিকে, আর এমবাপ্পে আলতো ছোঁয়ায় তা ফেরত দেন দেম্বেলেকে। এমবাপ্পে নিজের দৌড় বজায় রেখে মরক্কোর ডিফেন্ডারদের নিজের দিকে টেনে নেন, আর এটাই দেম্বেলেকে গোল করার জন্য প্রয়োজনীয় ফাঁকা জায়গা তৈরি করে দেয়

ইনজুরির কারণে মরক্কোর ফরোয়ার্ড ইসমাইল সাইবারির অনুপস্থিতি স্পষ্ট টের পাওয়া গেছে। পুরো ম্যাচে তারা ফ্রান্সের রক্ষণে ফাটল ধরাতে পারেনি এবং ম্যাচের ৮৪ মিনিটের আগে অন-টার্গেটে কোনো শটই নিতে পারেনি। শেষদিকে গোড়ালিতে চোট পাওয়ায় এমবাপ্পেকে তুলে নেন ফরাসি কোচ।

আমার গোড়ালিতে সামান্য চোট রয়েছে, তবে আমি পুরোপুরি ঠিক আছি। ম্যাচের বাকি সময়টুকু খেলার জন্য মাতেতা আমার চেয়ে ভালো অবস্থানে ছিল এবং ওই মুহূর্তে সে বেশি ফিট ছিল। ব্যস, এতটুকুই ঘটেছিল।”
– কিলিয়ান এমবাপ্পে

টানা তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে থাকা ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম বলেন, “টানা তিনবার সেমিফাইনালে ওঠা সত্যিই দারুণ ব্যাপার। কাজটা সহজ ছিল না, বিশেষ করে কিলিয়ানের পেনাল্টি মিসের পর… তবে সে কখনো দ্বিধায় ভোগে না। আমরা ঠিক যেখানে পৌঁছাতে চেয়েছিলাম, সেখানেই আছি।”

মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি পরাজয় মেনে নিয়ে বলেন, “আমরা খুবই হতাশ। তবে স্বীকার করতে হবে ফ্রান্স একটি দুর্দান্ত দল। আমাদের খেলায় নতুন কোনো আইডিয়া ও সতেজতার অভাব ছিল। ২০৩০ সালে আমরা স্পেন ও পর্তুগালের সাথে যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করব, আশা করি চার বছর পর ওদের আমরা হারাতে পারব।”


এই ক্যাটাগরির আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com