July 11, 2026, 12:15 AM

আবারও মেসিকে ছাড়িয়ে শীর্ষে এমবাপ্পে, ভাঙলেন একাধিক রেকর্ড

খেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ ১০ জুলাই, ২০২৬
আবারও মেসিকে ছাড়িয়ে শীর্ষে এমবাপ্পে
কিলিয়ান এমবাপ্পে

রোনালদো-রিভালদো জুটিকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন এমবাপ্পে-দেম্বেলে

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। পেনাল্টি মিস করার পরও কিলিয়ান এমবাপে এবং ওসমানে দেম্বেলের দারুণ পারফরম্যান্সে ফরাসীরা এই জয় তুলে নেয়। উক্ত ম্যাচের ওপর ভিত্তি করে একটি বিস্তারিত পরিসংখ্যানের রিপোর্ট নিচে তুলে ধরা হলো:

ফ্রান্স দলের দলীয় কীর্তি ও রেকর্ড

টানা তিনবার সেমিফাইনাল: ফরাসীরা ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬—টানা তিনটি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার গৌরব অর্জন করলো। ইতিহাসে জার্মানি ও ব্রাজিলের পর ফ্রান্স তৃতীয় দল হিসেবে এই কীর্তি গড়লো।

সেমিফাইনালের সংখ্যায় সমতা: এটি ফ্রান্সের অষ্টম বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল। এর মাধ্যমে তারা ব্রাজিলের সমান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেমিফাইনাল খেলার রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলল। সবার ওপরে আছে জার্মানি (১২ বার)।

বিশ্বকাপ জয়: বিশ্বকাপে এটি ফ্রান্সের ৪৫তম জয়, যার মাধ্যমে তারা ইতালির সাথে যৌথভাবে চতুর্থ স্থানে রয়েছে।

আর্জেন্টাইন রেফারির ভাগ্য: আর্জেন্টাইন রেফারিদের পরিচালনায় ফ্রান্স বিশ্বকাপে তাদের ৬ষ্ঠ জয় তুলে নিলো, যা যেকোনো দেশের জন্য সর্বোচ্চ।

কিলিয়ান এমবাপ্পে: রেকর্ডের বরপুত্র

মরক্কোর বিপক্ষে ১টি গোল এবং ১টি অ্যাসিস্ট করে এমবাপে একাধিক ঐতিহাসিক রেকর্ড নিজের নামে করেছেন:

শততম গোল অবদান: প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে ১০০-এর বেশি গোলে সরাসরি অবদান (৬৪ গোল, ৩৭ অ্যাসিস্ট) রাখার অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন এমবাপে।

গোল্ডেন বুটের দৌড়: এই বিশ্বকাপে ৮টি গোল করে লিওনেল মেসিকে টপকে গোল্ডেন বুটের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছেন তিনি (অ্যাসিস্টের টাইব্রেকারে এমবাপে এগিয়ে, ৩টি অ্যাসিস্ট বনাম মেসির ১টি)।

ম্যাচ জয়ী গোল: বিশ্বকাপে রেকর্ড ৮ম বারের মতো দলের পক্ষে জয়সূচক গোল করলেন তিনি, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ।

টানা পেনাল্টি গোলের সমাপ্তি: জাতীয় দলের হয়ে টানা ১৫টি পেনাল্টি সফলভাবে জালে জড়ানোর পর, এই ম্যাচে প্রথম পেনাল্টি মিস করেন এমবাপে।

ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল: বিশ্বকাপে এমবাপের ক্যারিয়ার গোল এখন ২০টি, যা ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২১ গোল নিয়ে সবার ওপরে আছেন লিওনেল মেসি।

নকআউট পর্বের ম্যাজিক: বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমবাপের গোল অবদান এখন ১৪টি, যা গত ৬০ বছরে লিওনেল মেসির সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ।

একক বিশ্বকাপের অবদান: ১৯৭০ সালে জার্ড মুলারের (১৩টি) পর এমবাপেই প্রথম খেলোয়াড় যিনি একটি বিশ্বকাপে ১১টি গোলে অবদান রাখলেন। এছাড়া ১৯৬৬ সালের পর তিনিই প্রথম খেলোয়াড় যিনি দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে ১০টির বেশি গোলে অবদান রেখেছেন (২০২২ সালে ১০টি, ২০২৬ সালে ১১টি)।

কোচের অধীনে রেকর্ড: কোচ দিদিয়ের দেশমের অধীনে এটি ছিল এমবাপের ২০তম বিশ্বকাপ ম্যাচ, যা একই কোচের অধীনে কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ড।

জুটির রসায়ন: ২০০২ সালের ব্রাজিলকে স্পর্শ

রোনালদো-রিভালদোর পর প্রথম: কিলিয়ান এমবাপে (৮ গোল) এবং ওসমানে দেম্বেলে (৫ গোল) ২০০২ সালের বিশ্বকাপের পর প্রথম দুই সতীর্থ, যারা একক বিশ্বকাপে প্রত্যেকে ৫ বা তার বেশি গোল করেছেন। এর আগে ২০০২ সালে ব্রাজিলের রোনালদো ও রিভালদো এই কীর্তি গড়েছিলেন।

‘থ্রি আর’ (Three Rs) কে ছাড়িয়ে: এই বিশ্বকাপে ফ্রান্সের আক্রমণভাগের ত্রয়ী—এমবাপে, দেম্বেলে এবং মাইকেল অলিস মোট ২৩টি গোলে অবদান রেখেছেন। এটি ২০০২ সালের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলের বিখ্যাত ত্রয়ী রোনালদো, রিভালদো এবং রোনালদিনহোর (২০টি) চেয়ে ৩টি বেশি।

দেম্বেলের শতভাগ ফর্ম: ওসমানে দেম্বেলে তার ক্যারিয়ারের ৫টি বিশ্বকাপ গোলের সবকটিই পেয়েছেন এই চলতি ২০২৬ সংস্করণে (২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপে তিনি কোনো গোল পাননি)।

মরক্কো ও অন্যান্য অনন্য পরিসংখ্যান

ইয়াসিন বুনোর দেয়াল: বিশ্বকাপে ফেস করা ৯টি পেনাল্টির (টাইব্রেকারসহ) মধ্যে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোকে মাত্র ২টি গোল দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি ৪টি পেনাল্টি সেভ করেছেন, যা ১৯৬৬ সালের পর যেকোনো গোলরক্ষকের জন্য যৌথভাবে সর্বোচ্চ।

মেসি ও এমবাপের মিল: একই ম্যাচে গোল করা, অ্যাসিস্ট করা এবং পেনাল্টি মিস করা—গত ৬০ বছরে এমন ঘটনা ঘটেছে মাত্র ৪ বার। মজার ব্যাপার হলো, এর মধ্যে দুটি ঘটনা ঘটেছে গত ৩ দিনের ব্যবধানে (মিশরের বিপক্ষে লিওনেল মেসি এবং মরক্কোর বিপক্ষে কিলিয়ান এমবাপে)।

তরুণ তুর্কি আইয়ুব বুয়াদ্দি: ১৮ বছর ২৮০ দিন বয়সে মরক্কোর আইয়ুব বুয়াদ্দি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হয়েছেন। এই তালিকার শীর্ষে আছেন পেলে (১৭ বছর ২৩৯ দিন, ১৯৫৮ সালে বনাম ওয়েলস)।


এই ক্যাটাগরির আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com