July 16, 2026, 7:26 AM

ইংল্যান্ডকে স্তব্ধ করে বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা

খেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ ১৬ জুলাই, ২০২৬

শেষ মুহূর্তের অবিশ্বাস্য কামব্যাক

আরও একবার খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর অবিশ্বাস্য রূপকথা লিখল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে, ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করেছে লিওনেল স্কালোনির দল। এই জয়ের মাধ্যমে নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সিতে আগামী রবিবারের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হওয়া নিশ্চিত করল আলবিসেলেস্তেরা।

অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে ৬০ বছর পর ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছিল থ্রি লায়ন্সরা। কিন্তু শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় এনজো ফার্নান্দেজ এবং লিসান্দ্রো মার্টিনেজের জোড়া গোল ইংলিশদের সেই স্বপ্ন চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়। এর মাধ্যমে নিজেদের ইতিহাসে সপ্তম বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখল আর্জেন্টিনা।

প্রথমার্ধের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

ঐতিহাসিক ও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের লড়াইটি শুরু থেকেই ছিল চরম উত্তেজনাপূর্ণ ও শারীরিক শক্তিনির্ভর। প্রথমার্ধে দুই দলই রক্ষণভাগ নিটোল রাখতে ব্যস্ত থাকায় প্রথম গোলমুখী শট দেখতে দর্শকদের ৩৩ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। ডেক্লান রাইসের ফ্রি-কিক থেকে জন স্টোনসের হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে সুযোগ হারায় ইংল্যান্ড। অপরদিকে আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজের একটি জোরালো শট পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়।

গর্ডনের গোলে ইংল্যান্ডের লিড

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে হুলিয়ান আলভারেজের একটি জোরালো শট দারুণভাবে রুখে দেন ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। তবে ম্যাচের ৫৫ মিনিটে ডেডলক ভাঙে ইংল্যান্ড। থমাস টুখেলের শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া মর্গান রজার্সের ডান প্রান্ত থেকে বাড়ানো চমৎকার নিচু ক্রসে পা ছুঁইয়ে বল জালে জড়ান অ্যান্থনি গর্ডন। প্রথমে ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনাকে পরে এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করেন এই ইংলিশ উইঙ্গার।

অ্যান্থনি গর্ডন

খাদের কিনারা থেকে চ্যাম্পিয়নদের ঘুরে দাঁড়ানো

১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে আর্জেন্টিনা। বদলি খেলোয়াড় নিকো গঞ্জালেসের হেড পিকফোর্ড চমৎকারভাবে বাঁচানোর পর আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

অবশেষে ৮৫ মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। একটি শর্ট-কর্নারের সূত্র ধরে লিওনেল মেসির পাস থেকে ডি-বক্সের বাইরে বল পান এনজো ফার্নান্দেজ। সেখান থেকে তার নেওয়া দূরপাল্লার এক নান্দনিক ও বুলেট গতির শট পরাস্ত করে পিকফোর্ডকে।

সমতাসূচক দুর্দান্ত গোলের পর ফার্নান্দেজের উচ্ছ্বাস।

ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়, তখন যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে (৯০+২ মিনিট) নাটকের চূড়ান্ত অঙ্ক রচিত হয়। ম্যাক অ্যালিস্টারের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসলে ফিরতি বল নিয়ন্ত্রণে নেন মেসি। ডান পায়ের মাপা ক্রসে দূরের পোস্টে থাকা লিসান্দ্রো মার্টিনেজ নিখুঁত হেডে বল জালে জড়িয়ে আর্জেন্টিনাকে মেতে তোলেন বাঁধভাঙা উল্লাসে।

বল দখলে নিয়ে বিধ্বংসী এক ক্রস বাড়ান লিওনেল মেসি। সেই বল কাছ থেকে দুর্দান্ত হেডে জালে পাঠিয়ে বদলি খেলোয়াড় লাউতারো মার্টিনেজ আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেন।

ম্যাচের কিছু অনন্য রেকর্ড ও পরিসংখ্যান

  • মেসির ইতিহাস: ৩৯ বছর ২১ দিন বয়সে মাঠে নেমে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলা সবচেয়ে বয়স্ক আউটফিল্ড (গোলরক্ষক বাদে) খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়লেন লিওনেল মেসি। তিনি ১৯৫৮ সালের সেমিফাইনালে খেলা ফ্রিটজ ওয়াল্টার ও গুনার গ্রেনকে (উভয়েই ৩৭ বছর ২৩৬ দিন) ছাড়িয়ে যান।
  • হ্যারি কেইনের মাইলফলক: ইংল্যান্ডের জার্সিতে ১২১তম ম্যাচ খেলে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা আউটফিল্ড খেলোয়াড় বনে গেলেন কেইন।
  • অভিজ্ঞদের দ্বৈরথ: দুই দল মিলিয়ে শুরুর একাদশে ৩২ বা তার বেশি বয়সী খেলোয়াড় ছিলেন ৭ জন, যা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ (এর আগে ২০০৬ সালে ফ্রান্স বনাম পর্তুগাল ম্যাচে ছিল ৬ জন)।
  • ম্যাচ সেরা: অসাধারণ নেতৃত্ব ও অ্যাসিস্টের জন্য ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন লিওনেল মেসি।


এই ক্যাটাগরির আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com