ইয়ামাল কি পারবেন মেসির মশাল বহন করে নিয়ে যেতে? ফুটবলে কিছু উত্তরাধিকার ট্রফি দিয়ে মাপা যায় না। কিছু উত্তরাধিকার এক জোড়া পায়ের ছন্দে, একটি হাসিতে, কিংবা বলের সঙ্গে গড়ে ওঠা এক অদ্ভুত সম্পর্কের মধ্যে বেঁচে থাকে। এক সময় সেই গল্পের নাম ছিল লিওনেল মেসি। বিশ্ব ফুটবলকে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে নিজের জাদুতে মুগ্ধ করেছেন তিনি। বার্সেলোনার লা মাসিয়া থেকে উঠে এসে কোটি মানুষের স্বপ্নের প্রতীক হয়ে ওঠা মেসি দেখিয়েছেন, উচ্চতায় নয় , মহত্ত্ব তৈরি হয় প্রতিভা, অধ্যবসায় আর বিনয় দিয়ে। তাঁর বাঁ পায়ের ছোঁয়ায় অসংখ্য রাত রূপকথায় পরিণত হয়েছে।

কিন্তু ফুটবলের নিয়মই হলো, সময় থেমে থাকে না। কিংবদন্তিরা একদিন ধীরে ধীরে মঞ্চ ছেড়ে দেন, আর নতুন কেউ আলোয় উঠে আসে। সেই নতুন নামটি আজ লামিন ইয়ামাল।
মাত্র কিশোর বয়সেই স্পেন ও বার্সেলোনার জার্সিতে যে পরিণত ফুটবল খেলছেন, তাতে অনেকেই ভবিষ্যতের সুপারস্টারের আভাস দেখতে পাচ্ছেন। তাঁর ড্রিবলিং, আত্মবিশ্বাস, গতি আর সৃজনশীলতা বারবার মনে করিয়ে দেয়, ফুটবল এখনও বিস্ময় তৈরি করতে জানে।
অনেকে বলেন, “মেসির ব্যাটন এখন ইয়ামালের হাতে।” কথাটি প্রতীকী। কারণ মেসির মতো আর কেউ হবে না। যেমন আরেকজন মারাদোনা আসেননি, তেমনি আরেকজন মেসিও আসবেন না। তবে প্রতিটি প্রজন্মেরই একজন থাকে, যে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখায়। আজ সেই স্বপ্নের নাম ইয়ামাল।

সবচেয়ে সুন্দর মিলটি হয়তো অন্য কোথাও। লা মাসিয়া, যে একাডেমি বিশ্বকে দিয়েছিল মেসিকে, সেখান থেকেই উঠে এসেছে ইয়ামালও। যেন একই গল্পের দু’টি অধ্যায়। প্রথম অধ্যায়ে ছিলেন এক কিংবদন্তি, দ্বিতীয় অধ্যায়ে শুরু হয়েছে এক সম্ভাবনার যাত্রা।
তবে ইয়ামালের সামনে পথটা সহজ নয়। প্রতিভার সঙ্গে তাকে বহন করতে হবে কোটি মানুষের প্রত্যাশা, তুলনা আর চাপ। প্রতিটি ভালো ম্যাচের পর তাকে বলা হবে ‘নতুন মেসি, আর প্রতিটি খারাপ ম্যাচের পর উঠবে সমালোচনার ঝড়।
কিন্তু হয়তো সেটাই দরকার নেই। ইয়ামালের সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত, সে ইয়ামাল। নিজের গল্পের নায়ক, নিজের সময়ের প্রতীক। মেসি ফুটবলকে যা দিয়েছেন, তা ইতিহাস হয়ে থাকবে। আর ইয়ামালের কাজ ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নয়; নিজের ইতিহাস লেখা।
সময় একদিন সিংহাসন বদলায়। আলো এক মুখ থেকে আরেক মুখে গিয়ে পড়ে। কিংবদন্তিরা বিদায় নেন, কিন্তু স্বপ্নের মশাল কখনও নিভে যায় না।