২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে রোববার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। একদিকে ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি, অন্যদিকে ১৯ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামাল। অনেকেই এই ম্যাচকে দেখছেন এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের হাতে ফুটবলের নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবে। বার্সেলোনার সাবেক কিংবদন্তি মেসির বিপরীতে থাকবেন ক্লাবটির বর্তমান সবচেয়ে উজ্জ্বল তরুণ তারকা ইয়ামাল। আসুন জেনে নেওয়া যাক , ইয়ামালের জন্মের আগেই মেসি যা যা অর্জন করেছিলেন!
ইউরো ২০২৪-এ মাত্র ১৭ বছর বয়সেই স্পেনকে শিরোপা জেতাতে বড় ভূমিকা রেখে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান ইয়ামাল। তবে তিনি ২০০৭ সালে জন্ম নেওয়ার আগেই মেসি নিজের ক্যারিয়ারে এমন অনেক অর্জন করে ফেলেছিলেন, যা একজন ফুটবলারের স্বপ্নেরও বেশি।

২০০৪ সালের ১৬ অক্টোবর নগর প্রতিদ্বন্দ্বী এস্পানিওলের বিপক্ষে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে বার্সেলোনার সিনিয়র দলে অভিষেক হয় মেসির। ম্যাচটি ১-০ গোলে জিতেছিল বার্সেলোনা।
একই বছরের ৭ ডিসেম্বর মাত্র ১৭ বছর বয়সে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রথম ম্যাচ খেলেন মেসি। শাখতার দোনেৎস্কের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে বার্সেলোনা ২-০ গোলে হেরেছিল।
২০০৫ সালের ১ মে লা লিগায় আলবাসেতের বিপক্ষে বার্সেলোনার জার্সিতে প্রথম গোল করেন মেসি। সেই গোলই ছিল তার পেশাদার ক্যারিয়ারের সূচনা অধ্যায়ের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।
২০০৫ সালের ১৪ মে বার্সেলোনা রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে চার পয়েন্ট এগিয়ে ২০০৪-০৫ মৌসুমের লা লিগা শিরোপা জিতে নেয়। এটিই ছিল মেসির প্রথম বড় পেশাদার ট্রফি। ১৯৯৯ সালের পর এটিই ছিল বার্সেলোনার প্রথম লিগ শিরোপা।
২০০৫ সালের ২ জুলাই নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতান মেসি। দেশের হয়ে এটিই ছিল তার প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রফি এবং পরবর্তী প্রায় ১৫ বছর পর্যন্ত এটিই ছিল একমাত্র শিরোপা। পুরো টুর্নামেন্টে ৬ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি জেতেন সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও।
২০০৫ সালের ডিসেম্বরে ইউরোপের সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ ফুটবলার হিসেবে ‘গোল্ডেন বয়’ পুরস্কার জেতেন মেসি। এই পুরস্কারের লড়াইয়ে তিনি ওয়েইন রুনি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে পেছনে ফেলেছিলেন।
২০০৬ সালের ১৭ মে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্সেনালকে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতে বার্সেলোনা। পুরো আসরে ছয় ম্যাচ খেলেন মেসি, যার চারটিতে ছিলেন শুরুর একাদশে। একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্টও করেন তিনি।
২০০৬ সালের ১৯ মে টানা দ্বিতীয়বারের মতো লা লিগা শিরোপা জেতে বার্সেলোনা। ১৯৯৭-৯৮ ও ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমের পর এটাই ছিল ক্লাবটির প্রথম ব্যাক-টু-ব্যাক লিগ শিরোপা। একই বছরের গ্রীষ্মে বার্সেলোনা স্প্যানিশ সুপার কাপও জিতে নেয়।

২০০৬ সালের ১৬ জুন মাত্র ১৮ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেন মেসি। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথম একাদশে ছিলেন তিনি। সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে বদলি নেমে গোল করেন। এরপর নিজের ১৯তম জন্মদিনে মেক্সিকোর বিপক্ষে শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার ২-১ গোলের জয়ে অবদান রাখেন।
২০০৬ সালের নভেম্বরে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বের পেশাদার ফুটবলারদের ভোটে নির্বাচিত ফিফপ্রো ওয়ার্ল্ড একাদশে জায়গা করে নেন মেসি। এর মাধ্যমে বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের কাতারে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন তিনি।
২০০৭ সালের ১১ মার্চ রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ক্যাম্প ন্যুতে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ৩-৩ ড্র ম্যাচে ক্যারিয়ারের প্রথম পেশাদার হ্যাটট্রিক করেন মেসি। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া বার্সেলোনাকে একাই ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন তিনি।
২০০৭ সালের ১৮ এপ্রিল কোপা দেল রের ম্যাচে হেতাফের বিপক্ষে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা একক গোলটি করেন মেসি। নিজের অর্ধ থেকে বল নিয়ে পাঁচজন ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে কাটিয়ে গোল করেন তিনি। গোলটি মুহূর্তেই ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত গোলের সঙ্গে তুলনা পায়। ম্যাচ ধারাভাষ্যকারের কাতালান ভাষার “এনকারা মেসি” (অর্থাৎ “এখনও মেসি এগিয়ে চলেছেন”) উচ্চারণও গোলটিকে ফুটবল ইতিহাসে আরও কিংবদন্তির মর্যাদা দেয়।
প্রায় দুই দশক পর সেই মেসিই এখন বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হবেন লামিনে ইয়ামালের। যে সময় ইয়ামাল পৃথিবীর আলোও দেখেননি, সে সময়ই মেসি ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের অসাধারণ উত্থানের ভিত্তি গড়ে ফেলেছিলেন। এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই প্রজন্মের দুই মহাতারকার এই লড়াই ঘিরে ফুটবল বিশ্বে তৈরি হয়েছে তুমুল আগ্রহ।