আমেরিকার মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সেই রোমাঞ্চকর রাত পেরিয়ে ফুটবলের বিশ্বমুকুট এখন ইউরোপের দেশ স্পেনে। দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপ শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে স্প্যানিশরা। ট্রফি বিজয়ের এই বাঁধভাঙা আনন্দ উদ্যাপন করতে ট্রফি নিয়ে ফিরলো স্পেনের ফুটবলাররা । সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ইবেরিয়া এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ বিমানে চেপে মাদ্রিদের বারাখাস বিমানবন্দরে পৌঁছান লাল-সাদা পতাকার প্রতিনিধিরা।

বিমান থেকে নামার সময় অধিনায়ক রদ্রির হাতে উঁচিয়ে ধরা সোনালী ট্রফিটি দেখা মাত্রই বিমানবন্দরে তৈরি হয় এক অভূতপূর্ব আবেগঘন পরিবেশ।
রবিবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়েছিল স্পেন। নির্ধারিত সময়ের সমতা পেরিয়ে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে ফেরান তোরেসের এক অনন্য গোলে ১-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে স্প্যানিশরা। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সিংহাসনে আরোহণ করল তারা।
বিশ্বজয়ী নায়কদের বরণ করে নিতে পুরো রাজধানীজুড়ে নেওয়া হয়েছে বর্ণিল প্রস্তুতি। দিনব্যাপি এই উদ্যাপনের সময়সূচি:
নগর কর্তৃপক্ষের ধারণা, বিশ্বজয়ী তারকাদের সরাসরি একনজরে দেখতে এবং অভিবাদন জানাতে শহরের রাস্তায় প্রায় ১০ লাখের বেশি মানুষের সমাগম ঘটবে। উদ্যাপন নির্বিঘ্ন করতে নিশ্চিত করা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
“এমন মহাজাগতিক মুহূর্ত জীবনে বারবার আসে না। ১৬ বছর পর ট্রফি ঘরে এসেছে, তাই পুরো রাত জেগে থাকলেও আজ রাজপথ ছেড়ে যাব না।”
ব্রুনো গনসালেস (৩২), স্প্যানিশ সমর্থক
এই বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে এক বিরল নজির স্থাপন করল স্পেন। ২০২৩ সালে স্প্যানিশ নারীরা বিশ্বমুকুট জেতার পর এবার পুরুষ দলও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলো। ফলে একই সাথে নারী ও পুরুষ , দুই বিভাগেরই বিশ্বকাপ ট্রফি এখন স্পেনের দখলে। উল্লেখ্য, ২০৩০ সালে পর্তুগাল ও মরক্কোর সাথে যৌথ আয়োজক হিসেবে নিজ দেশের মাটিতেই শিরোপা রক্ষার লড়াইয়ে নামবে তারা।
ঐতিহাসিক এই সাফল্যের উদ্যাপনের মাঝেই নেমে এসেছে একটি করুণ ছায়া। দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সিউদাদ রদ্রিগোতে আনন্দ মিছিলে এক ফোয়ারার অংশ ধসে পড়ে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর প্রাণ হারিয়েছে।
অন্যদিকে, ফাইনালে শেষ মুহূর্তের হারে স্তব্ধ আর্জেন্টাইন শিবির। লিওনেল মেসির হাত ধরে চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অধরা থেকে গেলেও বীরদের বরণ করে নিতে রাজধানী বুয়েনস আইরেসে হাজার হাজার সমর্থক অপেক্ষা করছেন বলে জানা গেছে।
১০৪টি ম্যাচের দীর্ঘ ও রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে ফুটবল বিশ্বের রাজত্ব এখন স্পেনের হাতে। আর সেই ইতিহাস উদ্যাপনে এখন মাতোয়ারা পুরো মাদ্রিদ।